সৌদিতে হত্যার পর মরুভূমিতে বালুচাপা, ৪১ দিন পর দেশে এলো মরদেহ
একবুক আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন। তবে আশা অপূর্ণই থেকে গেল তার। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে তার মরদেহ এসেছে দেশে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কফিনে মোড়ানো মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয়েছে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তিন কন্যাকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তার স্ত্রী।
নিহত জসিম উদ্দিন মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। স্ত্রী রুমা আক্তার ও তিন মেয়ে জাকিয়া (১৮), আয়েশা এবং জেসিয়াকে নিয়ে ছিল তার সংসার। বড় মেয়ে জাকিয়ার বিয়ে হয়ে স্বামীর সংসার করছে। মেজ মেয়ে আয়েশা ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে জেসিয়া দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকায় প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হন জসিম। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর আল কাসিমের একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জসিমকে হত্যা করে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়। পরে তার মোবাইলফোন ব্যবহার করে স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে সৌদি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মর্তুজা মাহবুব জানান, তার এলাকার একজন প্রবাসী বিদেশে নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা তাদের দায়িত্ব মনে করেই প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রী আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। অবশেষে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।
মরদেহ দেশে ফেরানোর সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জসিমের পরিবারের সদস্যরা। জানাজা শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর শোকাহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
স্ত্রী রুমার দাবি, স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিন কন্যার পড়াশোনা ও ভবিষ্যত জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।