মেনু
সংবাদ টাইমস
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে টানাপোড়েনে জামায়াত-এনসিপি

সংবাদ টাইমস ডেস্ক প্রকাশ : রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ 28 বার পঠিত
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে টানাপোড়েনে জামায়াত-এনসিপি
ছবি : স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে/ছবি: এআই নির্মিত

জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রার্থিতা ও নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব দেখা দিয়েছে।

তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নবীন দল এনসিপি ঢাকার দুই সিটিতে নিজেদের প্রার্থী নিয়ে ভোটে অংশ নিতে চায়। অন্যদিকে, সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ জামায়াত এখানে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে এই নির্বাচন ঘিরে দুই দলের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

এনসিপির একাধিক সূত্রের দাবি, দল দুটি আলাদাভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও সমঝোতার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এনসিপির চাওয়া ছিল, জামায়াত যেন ঢাকার দুই সিটি ছেড়ে দেয়। তবে জামায়াত ঢাকা ব্যতীত চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা সিটি ছাড়তে রাজি হয়। কিন্তু এনসিপি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। এ নিয়ে মূলত তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

রাজধানীতে জনপ্রিয়তা যাচাই

বর্তমানে এনসিপি মনে করছে, রাজধানীর রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জরুরি। অন্যদিকে, জামায়াতও গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি দেখাতে চায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দিতে। কিন্তু জামায়াত এই দুই সিটি ছাড়তে চায় না। অন্যদিকে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতাকে ঢাকার দুই সিটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে দুই দলের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যুগপৎ রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা আন্দোলন-সংগ্রামে কাছাকাছি থাকা দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে স্বার্থের সংঘাত সামনে আসছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শনিবারের (৩১ অক্টোবরের) লংমার্চে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতারা অনুপস্থিত ছিলেন

লংমার্চে নেই নাহিদ-আখতার

এদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শনিবারের (৩১ অক্টোবরের) লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের সঙ্গে মতপার্থক্যের খবরের মধ্যেই লংমার্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অংশ না নেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। এতে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

তবে লংমার্চে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন।

জামায়াতকে ছাড়াই মাঠে এনসিপি

এনসিপির সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দলের মধ্যে জামায়াত-নির্ভরতা নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা রয়েছে। অনেক নেতা মনে করেন, এনসিপির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জামায়াতের কর্মীরা সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। এতে রাজনৈতিকভাবে দলটির স্বকীয়তা হারাচ্ছে। এসব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জামায়াত-নির্ভরতা থেকে বের হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

দুই দলের মধ্যে দূরত্বের আলোচনার মধ্যেই শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভ সমাবেশ করে এনসিপি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। চার দফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

শাহবাগের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতকে ছাড়াই এনসিপির এমন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাজনীতিতে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই সমাবেশকে।

এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি?

এনসিপির জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াই নয়, বরং দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনসমর্থন যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় দলটি।

অন্যদিকে জামায়াতের রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি ও নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ। ফলে ঢাকার দুই সিটিতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে দলটির অনাগ্রহ এনসিপির সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ নিয়ে কথা হলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা আগে থেকেই বলছি, এককভাবে অংশ নিতে চাই। ঢাকায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এখানে ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নেই। কোথাও যদি সমঝোতার ভিত্তিতে হয় সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করবো।’

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণবিক্ষোভ সমাবেশ করে এনসিপি

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে কোনো ঐক্যের সম্ভাবনা দেখি না। তবে এটা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, বিষয়টা এমনও না। এটাকে আমরা শুধু নির্বাচন হিসেবে দেখতে চাই না, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার একটা সুযোগ হিসেবেও দেখতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।

মনিরা শারমিন জানান, লংমার্চে তাদের প্রতিনিধি গেছেন। দলের আহ্বায়ক যাননি, কারণ সামনে সাংগঠনিক সফর আছে।

একই কথা জানান এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের কিছু নাই। লংমার্চে আমাদের প্রতিনিধি গেছে। ঢাকা সিটি ছাড়তে চাওয়া, না চাওয়া এখানে বিষয় না। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা এককভাবে করতে চাচ্ছি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনও এককভাবে করবো।’

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক নিয়ে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে যেটা ছিল সেটা জাতীয় নির্বাচনের জোট। আসলে নির্বাচনি ঐক্য বলা যায়, সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য।’ তিনি জানান, তাদের দলীয় ফোরামে প্রার্থিতা ছেড়ে দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

সমঝোতার আশায় জামায়াত

তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে সমঝোতা হতে পারে বলে আশাবাদী জামায়াত। যোগাযোগ করা হলে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জোটের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে যে আমরা স্ব স্ব দল থেকে নির্বাচন করবো। যখন শিডিউল ঘোষণা হবে তখন দেখা যাবে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতা হলেও হতে পারে।’

রাজনীতি থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে