মেনু
সংবাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

গবেষণায় ৮০ ভাগ তরুণের শরীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত

সংবাদ টাইমস ডেস্ক প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ 28 বার পঠিত
গবেষণায় ৮০ ভাগ তরুণের শরীরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত
ছবি : ছবি: ডেইলি মেইল

তরুণদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে এমন একটি স্বাস্থ্যঝুঁকির লক্ষণ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগসহ গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। অথচ তাদের অধিকাংশই এই বিষয়ে সচেতন নন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের গবেষকদের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় ২০-এর কোঠায় থাকা ১ হাজার ২৮৩ জন তরুণের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশকে ‘কার্ডিওভাসকুলার-কিডনি-মেটাবলিক’ (সিকেএম) সিনড্রোমের কোনো না কোনো পর্যায়ের মধ্যে পাওয়া গেছে। এটি তুলনামূলকভাবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত একটি স্বাস্থ্যগত জটিলতা, যেখানে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা একই সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষকেরা বলছেন, এসব অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। একটি অঙ্গ বা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে গেলে অন্যগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়। ফলে ধীরে ধীরে এমন একটি চক্র তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।

সিকেএম সিনড্রোমের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ থাকে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকতে পারেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৪০.২ শতাংশ তরুণকে প্রথম পর্যায়ের সিকেএম সিনড্রোমে পাওয়া গেছে। এ পর্যায়ে সাধারণত শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা স্থূলতা থাকে।


আরও ৩৬ শতাংশ ছিলেন দ্বিতীয় পর্যায়ে। এ পর্যায়ে অতিরিক্ত ওজনের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার অনেকগুলোরও শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ অথবা ধমনিতে অস্বাভাবিক পুরুত্বের মতো ঝুঁকি ছিল। প্রায় ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে তাদের ধমনিগুলোর বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় প্রায় ১০ বছর বেশি বলে অনুমান করা হয়। আরও ৩ শতাংশ তৃতীয় পর্যায়ের সিকেএম সিনড্রোমে ছিলেন, যখন প্রধান রক্তনালিতে চর্বি বা প্লাক জমতে শুরু করে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসের সতর্কতামূলক লক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, চেষ্টা না করেও ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং মেজাজের পরিবর্তন থাকতে পারে। কিডনি রোগের শুরুতে উপসর্গ নাও থাকতে পারে; তবে গুরুতর হলে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষকদের পরামর্শ, অল্প বয়সেই ঝুঁকি শনাক্ত হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত। এ জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, অংশগ্রহণকারীরা ২০-এর কোঠার পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেননি। তাই ফলাফলকে সব তরুণের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

‘সার্কুলেশন: পপুলেশন হেলথ অ্যান্ড আউটকামস’ সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে