মেনু
সংবাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

আ’লীগের ঘনিষ্ঠতা থেকে বিএনপির বলয়ে লুবানা শম্পা, বদলায়নি ক্ষমতার সমীকরণ!

নিজস্ব প্রতিবদেক, সিলেট প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 102 বার পঠিত
আ’লীগের ঘনিষ্ঠতা থেকে বিএনপির বলয়ে লুবানা শম্পা, বদলায়নি ক্ষমতার সমীকরণ!
ছবি : সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন।

সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পাকে ঘিরে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, ক্ষমতার প্রভাব, মেলা আয়োজন ও আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের অবস্থানও বদলে নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শম্পা বলেছেন, সংগঠনের স্বার্থে স্বচ্ছতার সঙ্গেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে লুবানা শম্পার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে আলোচনা ছিল। ওই সময়ে ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ও তার স্বামী মামুন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর থেকে কাজ পাওয়ার সুযোগ নিয়েছেন এবং সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

তৎকালীন উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়ও শম্পার প্রভাবের কারণে কোণঠাসা ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দাবি করেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন আসে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর দ্রুত বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান লুবানা শম্পা। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর বলয়ে তার অবস্থান তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এই সময়ের মধ্যেই ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

পরবর্তীতে বিএনপির আরেকটি প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সরকারি বিভিন্ন দফতরে নিজের কাজ হাসিলের চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

 

লুবানা শম্পাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি মেলার অনুমতি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি মেলার অনুমতি নেন। পরে স্থানীয় চেম্বারের সদস্যদের না জানিয়ে মেলাটি এক ব্যবসায়ীর কাছে ২৫ লাখ টাকায় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তবে সংগঠনের কাছে মেলাটি মাত্র ৮ লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং প্রতিবাদী সদস্যদের বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

সম্প্রতি সিলেটের শাহী ঈদগাহ মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলার অনুমতি আদায়ে তিনি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২৯ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের কার্যালয়ে সিলেট ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শাহী ঈদগাহ মাঠে মেলা আয়োজন নিয়ে একটি চুক্তির আলোচনা হয়। সেখানে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার অঙ্ক উঠে এসেছে বলেও সূত্রের দাবি।

তবে এ বিষয়ে লুবানা শম্পার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

সিলেট উইমেন্স চেম্বারের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, লুবানা শম্পা সংগঠনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সদস্য বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এলেও সাধারণ সদস্যদের অনেকেই তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে লুবানা শম্পার বিভিন্ন সময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্যও করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে ব্যক্তির অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলেও চলছে নানা আলোচনা।

সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন—দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার মধ্যে যারা মাঠে ছিলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের জায়গা কি সুবিধাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই দখল করে নেবেন? লুবানা শম্পার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবের উৎস কোথায়—এ নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।


উইমেন্স চেম্বারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা বলেন, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা গোপনীয়তা রাখা হয়নি। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদনগুলোর মধ্য থেকে আয়োজকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করেই পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

ব্যবসা ও রাজনীতির ভিন্নতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চললেও তিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংগঠনের স্বার্থে স্বচ্ছতার সঙ্গেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে