গাজায় থামছে না সাংবাদিক হত্যা, প্রাণহানি ছাড়াল ২৬৩
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর প্রাণঘাতী ও পরিকল্পিত হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জার নামে আরও এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা বেড়ে ২৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছে, গাজার প্রকৃত পরিস্থিতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার কারণেই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পিত সাংবাদিক হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন, আরব সাংবাদিক ফেডারেশনসহ বিশ্বের সব গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস। একই সঙ্গে, এসব হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দ্রুত আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। অবিরাম বোমাবর্ষণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুরো উপত্যকাটিকে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও, ইসরায়েলি বাহিনী তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উপত্যকাজুড়ে তাদের সামরিক অভিযান, সাংবাদিক হত্যা ও রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে।