রাস্তার জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে হামলা, একই পরিবারের ৫ জন আহত
রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পিতা আব্দুস সালাম ও তার ছেলে সাজিদ হোসেন মেরিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
সোমবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পিতা-পুত্রকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাউল হক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধরমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমিতে বসবাস করে আসছেন বাদী কনকের পরিবারের সদস্যরা। তাদের বাড়ির সামনে অভিযুক্তরা নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। রোববার বিকেলে রাস্তার কিছু অংশ দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে কনকের পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাজিদ হোসেন মেরিন ও তার বাবা আব্দুস সালাম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কনকের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মেরিন হাতুড়ি দিয়ে কনকের বড় ভাই কায়েসের মুখে আঘাত করেন। এতে তার তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। কায়েসকে মারধর করতে দেখে কনক, তার চাচাতো বোন আলো ও চাচি রওশন আরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করেন।
ইটের আঘাতে কায়েসের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং তার পকেটে থাকা একটি স্মার্টফোনও ভেঙে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আব্দুস সালাম ইট দিয়ে কনকের বাবা আবুল কালাম আজাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একই ঘটনায় কনকের মা নাসিমা বেগমের কপালে, কায়েসের স্ত্রী মিতুর মাথায় এবং বীথির বাম হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
এজাহারে মেরিনের মা মিরার বিরুদ্ধে কনকের মায়ের গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। কনকের বড় ভাই, বাবা, মা ও ভাবিসহ আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের ছোট ছেলে কনক বাদী হয়ে সাজিদ হোসেন মেরিন, তার বাবা আব্দুস সালাম ও মা মিরার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মেরিন ও আব্দুস সালামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মেরিনের মা মিরা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মতিহার থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাউল হক বলেন, হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পিতা-পুত্রকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।