রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তারা দেশের কোন জেলার বাসিন্দা, তাদের পরিবারের সদস্য কারা—এসব তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আহত চার বাংলাদেশি বর্তমানে সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এর আগেও হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। এবার আরও দুই বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সরকার গভীরভাবে দুঃখিত। নিহতদের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে আর কোনো হতাহতের খবর আসবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১৪ জন বাংলাদেশিকে হারানোর কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সরকার আশা করে, এই বিপর্যয় ও হামলা বন্ধ হবে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও দেখভালের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিদেশে কর্মরত এসব মানুষ দেশের রেমিট্যান্সযোদ্ধা। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে যথাসম্ভব নিরাপদে থাকতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হামলার পর রিয়াদগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ওই সময় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের কোনো ফ্লাইট ছিল কি না, কিংবা কোনো ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মাত্র ঘটেছে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখভাল করা হবে।