পাটের বাজার ভালো দামে চাঙা
রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সকাল মানেই পাটচাষিদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার সময়। কেউ কাস্তে দিয়ে পাটগাছ কাটছেন, আবার কেউ পাটের আঁটি কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটছেন জলাশয়ের দিকে। পুকুর, খাল কিংবা ডোবায় জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজও চলছে পুরোদমে। আবার বাড়ির উঠানে সোনালি আঁশ শুকাতে দিয়েছেন কেউ কেউ।
রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সকাল মানেই পাটচাষিদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার সময়। কেউ কাস্তে দিয়ে পাটগাছ কাটছেন, আবার কেউ পাটের আঁটি কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটছেন জলাশয়ের দিকে। পুকুর, খাল কিংবা ডোবায় জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজও চলছে পুরোদমে। আবার বাড়ির উঠানে সোনালি আঁশ শুকাতে দিয়েছেন কেউ কেউ।
চাষিরা বলছেন, রাজশাহীতে এবার পাটের দাম ভালো। রাজশাহীর নওহাটা হাটে এখন একের পর এক ভ্যান, ট্রলি আর ছোট ট্রাকভর্তি পাট এসে জমা হচ্ছে আড়তে। দরদাম চলছে, ওজন হচ্ছে, নগদ টাকাও হাতে পাচ্ছেন কৃষক।
গত শুক্রবার সকালে পবা উপজেলার নওহাটা হাটে পাট বিক্রি করতে আসেন কৃষক বাবলু আহমেদ। তিনি জানান, সকালে চার মণ পাট বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ১৮ হাজার টাকা। আগে আরও আট মণ পাট একই দামে বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে পাটের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এবার তা অনেকটাই কেটে গেছে। উৎপাদনও ভালো হয়েছে, দামও সন্তোষজনক।
বড়গাছির কৃষক আবদুল আলীম জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১২ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বাজার বেশ চাঙা। ব্যবসায়ী জানিপ হোসেন জানান, গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট কিনতে হতো ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এবার একই সময়ে পাটের দাম সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। ভালো মানের পাটের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, মৌসুমজুড়ে বর্তমান দামের ধারাবাহিকতা থাকলে কৃষকের লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এতে আগামী বছর আরও বেশি কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, ফলন আশানুরূপ হয়েছে। বাজারদরও এখন চাষিদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।