মেনু
সংবাদ টাইমস | Bd News
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

জ্বালানি ও গ্যাস সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবদেক, সিলেট প্রকাশ : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ 57 বার পঠিত
জ্বালানি ও গ্যাস সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দেশের চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা স্পষ্ট। শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানা বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছে। এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে কাজ করছে।’

 

তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এ জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, তা দিতে হবে। অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

 

বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কূপ খনন করা গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বাড়বে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। দেশে প্রতিদিন জ্বালানির যে চাহিদা রয়েছে, তা বর্তমান সরবরাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ওপর বছরের এই সময়ে অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় জ্বালানির চাহিদা বেশি থাকে। ফলে সংকট এখন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।’

 

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরি। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়েও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশটির ছোট আকারের এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো বর্তমানে অন্যত্র কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপৎকালীন কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নিতে হবে।

 

কৃষি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের পর আগামী দিনের লক্ষ্য হবে কৃষিকাজ থেকে পুরোপুরি রিটার্ন তুলে আনা। দেশের কৃষিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও লাভজনক ও কার্যকর খাতে পরিণত করতে চায়। কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মশালা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগের আয়োজিত বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন।

সারাদেশ থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে