শুরু হল কলকাতায় চলন্ত ট্রামে শিশুদের লাইব্রেরি, বিশ্বে এই প্রথম

0
125

#ট্রাম: কলকাতা কালীপুজো উপলক্ষ্যে এখন আলোর রোশনাইয়ে গা ভাসিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যাঁরা আবার নস্টালজিক হতে চান, তাঁদের জন্যও পশ্চিমবঙ্গ ট্রাম পরিবহন নিগম বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। বিশ্বের প্রথম শিশু পাঠাগারসমেত ট্রামের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ আবার শিশু দিবসও। ‘দ্য কলকাতা ইয়ং রাইডার্স ট্রামকার’ নামক বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ ট্রাম পরিবহন নিগম এবং এপিজে আনন্দ চিলড্রেন্স লাইব্রেরির যৌথ উদ্যোগে করা হয়েছে।

দুটি বিষয় একসঙ্গে হবে এখানে । প্রথমত বিষয়টি নতুন শিশু পাঠকদের আকৃষ্ট করবে এবং দ্বিতীয়ত মা–বাবা তাদের শিশুদের নিয়ে এখানে উঠবেন। এর ফলে তারাও নস্টালজিক হয়ে পড়বেন কিছুক্ষণের জন্য। একটা আলাদা আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে চলন্ত অবস্থায় বই পড়া। আসলে নতুন প্রজন্মের এখন গল্পের বই পড়ার অভ্যাস নেই বললেই চলে। কারণ এখন হাতের নাগালে স্মার্টফোন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সবই এসে গেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে বইয়ের স্বাদ কী এভাবে ভার্চুয়ালি পাওয়া যায়?

এই প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হল এখানে হাজার বই থাকছে শিশুদের জন্য। কিন্তু এই ট্রাম কী করে মিলবে? এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজনভীর সিং কাপুর বলেন, ‘এই ট্রাম ছাড়বে শ্যামবাজার থেকে ধর্মতলা এবং ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট রুটে। রোজ এই ট্রাম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলবে।’ তাহলে এখন ট্রামে উঠে ঘরবন্দি শিশুরা মুক্তির স্বাদ পাবে। করোনার জন্য লকডাউন এবং ঘরে থেকে শিশুরাও হাঁফিয়ে উঠেছে এখন সেখান থেকে মুক্তি মিলবে।

Advertisement

শিশুদের কোনও ভাড়া এখানে লাগবে না। কন্যাশ্রী প্রকল্পে থাকা মেয়েদেরও ভাড়া লাগবে না। মা–বাবার কেবলমাত্র ভাড়া লাগবে এবং সেটা ট্রামের যে ন্যূনতম ভাড়া হয় সেটাই। যে ট্রাম সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন হয়েছিল, সেখানে ছিল পরীক্ষার্থীদের জন্য বইপত্র এবং বিপুল পরিমাণ বই। এমনটা চেক প্রজাতন্ত্রেও দেখা যায়। কিন্তু চলন্ত ট্রামে শিশু পাঠাগার বিশ্বে এটা প্রথম। সমগ্র ভারতের মধ্যে ট্রামের অস্তিত্ব একমাত্র কলকাতায় রয়েছে। প্রথম কলকাতায় ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলে ১৮৭৩ সালে। তারপর ক্রমে ক্রমে আধুনিকীকরণ হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী ট্রামে শিশুদের জন্য আরও পরিকল্পনা নিয়ে আসা হচ্ছে।

Leave a Reply