দীপাবলির আগেই আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন

0
133
The Minister of State for Commerce & Industry (Independent Charge), Smt. Nirmala Sitharaman addressing a press conference, in New Delhi on October 14, 2016.

#অর্থনীতি:    দীপাবলির আগেই আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবার আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ৩.০, আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০ এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ২.০ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ৩.০:

১. মোট ১২ টি ঘোষণা করা হবে।

Advertisement

২. কর্মসংস্থান তৈরি এবং সংগঠিত ক্ষেত্রে রোজগার নিশ্চিত করার জন্য ‘আত্মনির্ভর রোজগার যোজনা’-র ঘোষণা করা হচ্ছে। যে কর্মীরা ইপিএফওয়ের আওতায় ছিলেন না এবং ১ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাঁরা কর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের যে সংস্থাগুলি নিয়োগ করবে, তারা এই সুবিধা পাবে। সেই সংস্থাগুলিকে ইপিএফওয়ের কাছে নথিভুক্ত থাকতে হবে। ১ অক্টোবর থেকে যে সংস্থাগুলি এরকম কর্মীদের নিয়োগ করবে, তাঁরা আগামী দু’বছরের জন্য সেই সুবিধা পাবে। তবে কর্মীদের মাসিক বেতন ১৫,০০০ টাকার কম হবে।

৩. দুটি শর্তে দেওয়া হবে। প্রথমত, যে সংস্থার ৫০ জন কর্মী আছেন, তাঁদের ন্যূনতম দু’জন নয়া কর্মী থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ৫০ জনের বেশি কর্মী থাকলে তাহলে নয়া কর্মীর সংখ্যা হবে ন্যূনতম পাঁচজন। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই যোজনা চালু থাকবে।

৪. দু’বছরের জন্য নয়া কর্মীদের জন্য ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। যে সংস্থাগুলিতে ১,০০০ জন পর্যন্ত কর্মী আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ অর্থ দিতে হবে কর্মীদের। ১২ শতাংশ দেবে সংস্থা। এই ২৪ শতাংশ টাকা কেন্দ্র ভর্তুকি দেবে। যে সংস্থাগুলিতে ১,০০০ জনের বেশি কর্মী আছেন, তাঁদের শুধু কর্মীদের ১২ শতাংশের ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। যাতে সংস্থাদের উপর কম বোঝা যাবে। শুধু আধারের সঙ্গে ইপিএফও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

৫. আত্মনির্ভর ভারতের আওতায় ক্রেডিট লাইনের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের জন্য সেই ঋণের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা বাণিজ্য সংস্থা, ব্যবসার জন্য ব্যক্তিগত ঋণ এবং মুদ্রা গ্রাহকদেরও সেই ঋণের আওতায় আনা হয়েছিল।

৬. কামাথ কমিটির চিহ্নিত ২৬ টি ক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্য খাতের সংস্থাগুলির জন্য অর্থ সাহায্য করা হবে। তাতে সুদের হার নির্ধারিত থাকবে।

৭. লকডাউনের আগেই তিনটি ক্ষেত্রকে উৎপাদন সংক্রান্ত বিশেষ উৎসাহ বা ইনসেনটিভ প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। বুধবার আরও ১০ টি ক্ষেত্রকে যুক্ত করা হয়েছে। ১.৪৬ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার ফলে ঘরোয়া উৎপাদন চাঙ্গা হবে। তাতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী।

৮. অত্যাধুনিক রাসায়নিক সেল ব্যাটারী , বৈদ্যুতিন বা প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, অটোমোবাইল ও গাড়ির সরঞ্জাম, ওষুধ, টেলিকম এবং নেটওয়ার্কিং পণ্য, বস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, উচ্চক্ষমতার সৌরযন্ত্র, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র-সহ বিভিন্ন পণ্য এবং বিশেষ ইস্পাত ক্ষেত্রে সেই প্যাকেজের ঘোষণা করা হয়েছে।

৯. নির্মাণ এবং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অনেক সময় সংস্থাগুলিকে বেশি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতে হত। এবার তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ইএমডি দিতে হবে না। পরিবর্তে কার্যত ‘সিকিউরিটি ডিক্ল্যারেশন’-এর মতো দিতে হবে। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেটির মেয়াদ থাকবে।

১০. আবাসন ক্ষেত্রে বাড়ি তৈরি এবং বাড়ি কিনবেন যাঁরা, তাঁদের জন্য বড় ঘোষণা করা হচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী, সার্কেল রেট এবং এগ্রিমেন্ট ভ্যালুর মধ্যে ১০ শতাংশ পার্থক্য ছিল। কিন্তু আসল দাম তার থেকে কম হত। এবার তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। তার ফলে লাভবান হবেন মধ্যবিত্তরা। চাঙ্গা হবে আবাসন ক্ষেত্র।

১১. ভর্তুকিযুক্ত সারের ক্ষেত্রে ৬৫,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হচ্ছে।

১২. পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ১১৬ জেলায় প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা চলছে। সেজন্য ইতিমধ্যে ৩৭,৫৪৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজে ২৫১ কোটি মানুষের কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্র যাতে সমস্যার মুখে না পড়ে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার আওতায় আরও ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০০ দিনের কাজের জন্য এবারের বাজেটে ৬১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে আরও ৪০,০০০ কোটি টাকা দেখা হয়েছিল।

১৩. রফতানি চাঙ্গা করতে এগজিম ব্যাঙ্ককে আরও ৩,০০০ কোটি টাকার লাইন অফ ক্রেডিট হিসেবে দেওয়া হল।

১৪. মূলধনী এবং শিল্প খাতে ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ১০,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। তার ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, শিল্পের পরিকাঠামো ভারতেই তৈরি হয়।

১৫. কোভিডের টিকা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে যাবে এবং তা পাবে কেন্দ্রীয় সরকারের জৈবপ্রযুক্তি দফতর।

 

আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০ এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ২.০:

১. গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে যে, পরিবর্তন হচ্ছে অর্থনীতির। এটা শুধু বেশি চাহিদার লক্ষণ নয়, এটা অর্থনীতি চাঙ্গা হাওয়ার প্রমাণ।

২. মুডিজের তরফে নয়া পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।চলতি বছর অর্থনীতি ৯.৬ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখন তা ৮.৯ শতাংশ হয়েছে।অন্যদিকে ২০২১ সালে ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮.১ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ৮.৬ শতাংশ করা হয়েছে।

৩. তৃতীয় ত্রৈমাসিক বৃদ্ধি সুষ্ঠুভাবে হয়েছে এবং জিএসটি আদায় বেড়েছে।

৪. আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০: কয়েকটি যে প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল, তার অগ্রগতি অত্যন্ত ভালো। তার মধ্যে একটি হল – ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’। এখন দেশের ২৮ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬৮.৬ কোটি মানুষ সেই সুবিধা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্পের আওতায় অর্থাৎ হকারদের জন্য ২৬.৫২ লাখ ঋণের আবেদন জমা পড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। ৩০ টি রাজ্য এবং ছ’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৩.৭৮ লাখ ঋণের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। যার মূল্য ১৩৭৩.৩৩ কোটি টাকা।

৫. আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০: কিষান ক্রেডিট কার্ডের জন্য ১৮৩.১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ১৫৭.৪৪ লাখ কিষান ক্রেডিট কার্ড দিয়েছে ব্যাঙ্ক। তার ফলে ২.৫ কোটি চাষি লাভবান হয়েছেন। দুদফায় মৎস্য প্রকল্পের আওতায় ১৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২১ টি রাজ্যে আবেদন জানিয়েছে।

৬. আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০: ছোটো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রকল্পের আওতায় ৬১ লাখ ঋণগ্রহীতার জন্য ২.০৫ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১.৫২ লাখ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। ডিসকমকে সাহায্যের জন্য ১৭ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১১৮,২৭৩ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।ইতিমধ্যে ১১ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ৩১,১৩৬ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৭. আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ২.০: স্টেট ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার তরফে দেওয়া হচ্ছে ‘উৎসব কার্ড’। এলটিসি ভাউচারও দেওয়া হয়েছে। সুদবিহীন ঋণ হিসেবে ১১ টি রাজ্যকে ৩,৬২১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply