‘এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মিহির গোস্বামী

0
190

#মিহির-গোস্বামী: আজ সকালে ফেসবুকে সর্বসমক্ষে দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়?”

এদিন ফেসবুক পোস্টে মিহির গোস্বামী লিখেছেন, “সংগঠন থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা করার পর ৬ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এই ৪৩ দিনে আমি সব দলের কাছ থেকে এক বা একাধিক ফোন কল পেয়েছি, কথা বলেছি। কিন্তু গত ৬ সপ্তাহে খোদ নেত্রীর কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি। কোনও বরখাস্তনামা কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশও আসেনি তাঁর কাছ থেকে।” মিহিরবাবুর ইঙ্গিত করছেন, দলের ক্ষমতা যে দলনেত্রীর হাতে নেই তা ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

মিহির গোস্বামী লিখেছেন, “বহুকাল পরে এবার এক নিস্প্রভ দীপাবলী দেখে মন বিষণ্ণ হয়েছিল। তেমনই ভেবে বিস্মিত হয়ে যাই, যে দলের অভিধানে ‘সম্মান’ বলে শব্দটিই অনুপস্থিত সেই দলে ২২টা বছর কাটিয়ে দিলাম! কী করে সম্ভব হল, কেন তা সম্ভব হল এসব প্রশ্ন উঠে আসে নিজের মনেই! উত্তর একটাই খুঁজে পাই, দিদি! দলের ভেতর অজস্র অপমান অবমাননা ক্রমাগত সহ্য করে গিয়েছি অকারণে, চুপ করে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীরাও বিরক্ত হয়েছেন বারবার। কিন্তু আমার উত্তর একটাই ছিল, দিদি! যার উপর বিশ্বাস–আস্থাতেই এতদিন টিকেছিলাম।”

Advertisement

মিহির গোস্বামী আরও লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে দীর্ঘ ৩০ বছর অতিক্রম করার পর হঠাৎ বোধগম্য হয়েছে, এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই ‘‌দিদির লোক’‌ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে ‘‌যো হুজুর’‌ করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও। শ্যামামায়ের আরাধনালগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে।”

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই পোস্ট, ফলস্বরূপ রাজনৈতিক সমালোচনাও ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যদিও এই বিষয়টিতে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। অন্যদিকে মিহির গোস্বামীর ক্রমাগত এহেন তৃণমূল-বিরোধী মন্তব্যকে ঘিরে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, “যদি তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে আসতে চান, আমাদের দরজা খোলা আছে।”

Leave a Reply