পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধে

0
151

দিন দিন ইথিওপিয়ার তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট ও সরকারের মধ্যে বাঁধা গৃহযুদ্ধ ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ার উত্তরের তাইগ্রে অঞ্চল থেকে প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলের ‘বাহির দার’ শহরে রকেট নিক্ষেপ করে আঞ্চলিক এই বাহিনী। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এমনটাই জানিয়েছে ইথিওপিয়ার আমহারা সরকার। ওই আঞ্চলিক বাহিনী ক্রমশ রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য শুক্রবার আমহারার আঞ্চলিক সরকারের যোগাযোগ অফিস তার ফেসবুক পেজে জানিয়েছে “অবৈধ টিপিএলএফ গ্রুপটি বৃহস্পতিবার ১টা ৪০ নাগাদ করে [২২:৪০ জিএমটি] রকেট হামলা চালিয়েছিল”।

দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী অবি আহমেদকে ক্ষমতা গ্রহণের আগে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের টিপিএলএফ বহু-জাতিগত জোটের শক্তিশালী শক্তি হিসাবে কয়েক দশক ধরে ইথিওপিয়াকে শাসন করেছিল।

Advertisement

অবি আহমেদের সরকার বলেছে যে টিপিএলএফ পুনর্নবীকরণে পরিণত হয়েছে এবং ইথিওপিয়ার উত্তরের তাইগ্রে অঞ্চল অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে পড়ে যখন সরকার তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ফেডারেল সেনা আক্রমণ করার অভিযোগ আনে। এদিকে টিপিএলএফ বলছে যে যুদ্ধটি আঞ্চলিক অধিকারের উপর একটি অসাংবিধানিক হামলার অংশ। উভয় পক্ষই একে অপরের উপর নৃশংসতা ও মানবিক সহায়তা অবরুদ্ধ করার অভিযোগ তুলেছে।

উল্লেখ্য ক্রমাগত এই বেড়ে চলা গৃহযুদ্ধের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ ইথিওপিয়া ছেড়ে সুদানে পালাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফররিফিউজিস’ (ইউএনএইচসিআর) গতকাল, মঙ্গলবার জানায়, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলে খ্যাত ইথিওপিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ মানবিক সঙ্কটের চেহারা নিচ্ছে। শুধু তাই নয়,উত্তর ইথিওপিয়ার সংঘাতে গত দু’সপ্তাহ ধরে কয়েক শতাধিক লোক মারা গিয়েছে।

এমনকি ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুসর বিরুদ্ধে। ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল বিরহানু জুলা সাফ জানিয়েছেন সম্প্রতি সেখানকার তাইগ্রে বিদ্রোহী নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে আধানম। শুধু তাই নয় দিচ্ছেন কূটনৈতিক মদতও। যে কারণে সেনাপ্রধান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানকে কাঠঘোরায় তুলে ‘অপরাধী’ বলেও উল্লেখ্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার এপ্রসঙ্গে ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল বিরহানু জুলা জানান, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তাইগ্রে (Tigray) সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইথিওপিয়ার সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছেন। তিনি একজন অপরাধী।’ যদিও এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি।

এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)’র প্রধান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এপ্রসঙ্গে টেডরোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুস (Tedros Adhanom Ghebreyesus) টুইট করেন, ‘আমি ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে মদত দিচ্ছি বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমি আগাগোড়া একটা পক্ষেই আছি, তা হল শান্তি। এর জন্য তাইগ্রে বিদ্রোহীদেরও আমি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের পরামর্শ দিয়েছি।’

Leave a Reply