অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, চাপে পড়ে ‘উৎপাদনগত ত্রুটি’ স্বীকার করল সংস্থা

0
163

এই মুহূর্তে সারা বিশ্ববাসীর মুখে একটাই লব্জ যে করোনা ভ্যাকসিন কবে আসবে। আশা জাগিয়েছে বেশ কিছু ভ্যাকসিন। কয়েকদিন আগেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথভাবে তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশ কার্যকরী হবে বলে দাবি করেছিল। চুড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের পর এই ফলাফল এসেছে বলে জানানো হয়। কিন্তু গতকাল বুধবার ওই ভ্যাকসিনে উৎপাদনগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে নিল ওই সংস্থাই।

প্রসঙ্গত তৃতীয় দফার ট্রায়ালের পর জানাযায়, এই ভ্যাকসিনের হাফ ও ফুল-ডোজে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পারবে। ১৩১ জনের শরীরে তৃতীয় দফার ট্রায়াল চালিয়ে দেখা গিয়েছে মানবদেহে ভাইরাসের বিরুদ্ধে গড়ে ৭০.৪ শতাংশ কার্যকরী। তবে এই টিকার দুরকম ডোজ রয়েছে। প্রাথমিক বা প্রথম ডোজ ও তারপর বুস্টারের স্ট্যান্ডার্ড ডোজ। এই দুরকম ডোজ প্রয়োগ করলে তবেই এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯০ শতাংশে পৌঁছবে। তবে শুধু স্ট্যান্ডার্ড ডোজটিকে প্রাথমিক ও বুস্টার হিসেবে ব্যবহার করলে তার কার্যকারিতা মাত্র ৬২ শতাংশ। তাই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের হাফ-ডোজ প্রাইম ও ফুল-ডোজ বুস্টারেই সবচেয়ে ভালভাবে লড়াই করা যাবে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে। এতে সংক্রমণ রোখা সম্ভব হবে।

কিন্তু টিকার ওই সাফল্য নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠতে থাকে। খটকা লাগে যখন বলা হয়, যাঁদের শরীরে প্রতিষেধকের কম ডোজ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের শরীরে ৯০ শতাংশ কাজ করেছে টিকা। আর যাঁদের শরীরে একাধিক ডোজ দেওয়া হয়েছে তাঁদের শরীরে ৬২ শতাংশ কাজ করেছে। আর এই পদ্ধতি নিয়েই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন এভাবে দু’রকম ফল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, কেন একটি ডোজ যাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রিপোর্টকে মাথায় রেখে টিকার চরম সাফল্য দাবি করা হল? কেন এক দল মানুষ একটি নির্দিষ্ট ডোজের টিকা পেলেন, আর অন্যদল তার থেকে বেশি ডোজের টিকা পেলেন?

তারপরেই সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বুধবার বলা হয়, উৎপাদনগত ত্রুটি রয়েছে এই টিকার। এর একদিন আগেই টিকার সাফল্য দাবি করেছিল সংস্থা।

Leave a Reply