বড়পর্দা আলো করে আরও দুটি ছবিতে থাকবেন সৌমিত্র, বাকি রয়ে গেল তথ্যচিত্রের কাজ

0
76

#সৌমিত্র_চট্টোপাধ্যায়:  করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজের জীবন নিয়ে তৈরি সিনেমা অর্থাৎ বায়োপিকের শুটিং শেষ করেছিলেন। তবে তাঁর বহুমুখী ব্যক্তিজীবনের একটি তথ্যচিত্রের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালনা চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘অভিযান’–এর শুটিং শুরু হয়। কিন্তু মার্চ মাসে করোনার জন্য লকডাউনে শুটিং ফ্লোরে তালা পড়ে।

কিন্তু ‘আনলক’ পর্বে লাইট–ক্যামেরা–অ্যাকশন চালু হতেই ‘ফেলুদা’ ফ্লোরে ফেরেন। কলকাতার দুই জায়গায় বাকি ছিল তিনদিনের শুটিং। কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনাবিধি মেনে শুটিংয়ের সেই কাজ সম্পূর্ণ করেন। ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের ছবি তার নামও ছিল অভিযান। সৌমিত্র তাতে এক ট্যাক্সিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এখনকার ‘অভিযান’–এর প্রোডাকশন দলের এক সদস্য বলছিলেন, ‘শুটিংয়ের সময় একেবারে মাটির মানুষের মতো মিশে গিয়েছিলেন আমাদের সঙ্গে। তিনি যেভাবে কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তেন, যেভাবে ভালবেসে কাজ করতেন তা ঈর্ষণীয়।’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘অভিযান’–এ তাঁর কমবয়েসি চরিত্রে যীশু সেনগুপ্ত অভিনয় করছেন। তাঁর জীবনের পরবর্তী পর্বে নিজের ভূমিকায় কিংবদন্তি অভিনেতা নিজেই অভিনয় করেছেন।

সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতার জীবনের নানা দিক তুলে ধরতে এক তথ্যচিত্রের শুটিংশুরু হয়েছিল। তাঁর জীবনে নানা রঙ যেমন চলচ্চিত্রাভিনেতা, মঞ্চ অভিনেতা, কবি, লিট্ল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা এবং চিত্রশিল্প সবকিছু একটি ক্যানভাসে আঁকতে চেয়ে এই তথ্যচিত্র তৈরি হচ্ছিল। সেই কাজঅভিনেতার প্রয়াণে অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।

Advertisement

অতনু ঘোষ বলছিলেন যে তিনি এবং সন্দীপ রায় তথ্যচিত্রের কাজ শুরু হওয়ার পর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে মূলত তাঁর সিনেমায় অভিনয়ের দিনগুলির কথা রয়েছে। নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদার তাঁর মঞ্চে নাটকের যে অভিজ্ঞতা সে ব্যাপারে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। কিন্তু সাহিত্য সংক্রান্ত ব্যাপারেতথ্যচিত্রের জন্য যে শুটিং করার কথা ছিল সেটা থমকে যায় কারণ তার তারিখ ছিল ৭ অক্টোবর আর তার ঠিক আগের দিনই সৌমিত্রবাবু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

সত্যজিৎ–পুত্র সন্দীপ রায় বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর, যেদিন আমরা শুটিং করছিলাম, সেদিন অনেকটা প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি। মানসিকভাবে যথেষ্ট সজাগও ছিলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে শুটিং চলতে থাকলেও কোনওরকম অস্বস্তি দেখাননি তিনি। কখনও ভাবিনি যে তিনি এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।’ এই তথ্যচিত্রটি তৈরি হলে তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে রাখার মতো হত বলে অতনু ঘোষ জানান।

অনীক দত্তের পরিচালনায় সৌমিত্র–অভিনীত শেষ ছবি ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ করোনা অতিমারীর আগেই মুক্তি পায়। তিনি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়–নন্দিতা রায় পরিচালিত ‘বেলাশুরু’র শুটিং শেষ করেছেন। এই বছরের শুরুতেই। সেই ছবিতে স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন । সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনীত শেষ দুটি ছবি ‘অভিযান’ ও ‘বেলাশুরু’ সিনেমা হলেকবে মুক্তি পাচ্ছে তা অবশ্য জানা যায়নি। বলা বাহুল্য, রবিবার কিংবদন্তী অভিনেতাকে হারিয়ে আপামর বাঙালি ও সিনেমাপ্রেমী মানুষ তাঁকে শেষবার বড়পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবেন।

Leave a Reply