শুভেন্দুর ইস্তফা ঘিরে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে

0
62

“শুভেন্দুকে তৃণমূল কখনও মর্যাদা দেয়নি। স্রেফ কাজ করিয়ে নিয়েছে।” শুক্রবার দুপুরের দিকে মন্ত্রীত্ব পদ ইস্তফা দেওয়ার পর এমনটাই জানালেন বিরোধী শিবিরের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী । পাশপাশি শুভেন্দু ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনাও করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। উল্লেখ্য রাজ্যের মন্ত্রিত্ব পদ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে কটাক্ষ ধেয়ে আসছে রাজ্যের শাসক শিবিরের দিকে। সমর্থন, বিরোধিতা, সমালোচনা – সবই চলছে জোরকদমে।

প্রসঙ্গত শুক্রবার দুপুরের দিকে দীর্ঘদিনের জল্পনা সত্যি করে মন্ত্রিত্ব পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু অধিকারী। যা একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে। শুভেন্দুর অধীনে ছিল তিনটি দফতর, রাজ্যের সেচ, জলসম্পদ ও পরিবহণ। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, , ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আমি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যেন এটি গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে এই চিঠি ই-মেল মারফত রাজ্যপালের কাছেও পাঠিয়েছি। আমি খুবই ধন্য যে, রাজ্যের প্রশাসন ও রাজ্য আমাকে এই মন্ত্রিত্বপদে নিয়োগ করেছিল এবং আমি যথাসাধ্য নিজের প্রতিশ্রুতি রাখার চেষ্টা করেছি। রাজ্যের মানুষকে সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ।’

তারপরই পারদ চড়ে বঙ্গ রাজনীতিতে। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেয়। অধীর রঞ্জন পুরো বিষয়টিকে সাপ আর সাপুড়ের সঙ্গে তিনি তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শুভেন্দু অধিকারী না থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না। অন্যদিকে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর মত, তাঁকে দলে টেনে বিজেপিও সুবিধা করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গী সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “শুভেন্দুর ইস্তফায় স্পষ্ট, তৃণমূলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ। ”

Advertisement

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “তৃণমূলের অন্তর্জলি যাত্রা শুরু হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাপুড়ের মতো বিজেপিকে বাংলায় ডেকে এনেছিলেন। ‘বিজেপি বহিরাগত’, এ কথা ওঁর মুখে মানায় না। ঠিক যেমন সাপুড়েকে সাপের ছোবলে মরতে হয়, তেমনই তৃণমূলের ললাটে লেখা রয়েছে।” বহরমপুরের সাংসদের আরও বক্তব্য, “শুভেন্দুকে তৃণমূল কখনও মর্যাদা দেয়নি। স্রেফ কাজ করিয়ে নিয়েছে। আমি নন্দীগ্রামে গিয়ে দেখেছি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুভেন্দু আন্দোলন করেছিলেন।” এরপর অধীর চৌধুরী বলেন, “শুভেন্দু কোথায় যাবেন সেটা তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তৃণমূল যে ধুলিসাৎ হয়ে যাবে সন্দেহ নেই। আর বাম-কংগ্রেসের এই জোট থাকবে এবং আরও মজবুত ও শক্তিশালী হবে।”

অধীর চৌধুরীর ঠিক এই কথার প্রতিধ্বনিই শোনা গেল রাজ্যের আরেক বিরোধী দলের নেতা তথা বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর (Sujan Chakraborty) বক্তব্যে। তিনি সাফ জানালেন, “এ তো হওয়ারই ছিল। বোঝাই যাচ্ছে তৃণমূল ক্রমশ কমজোরি হচ্ছে। তৃণমূল থেকে লোক ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়ে বিজেপি যে খুব সুবিধা করতে পারবে, তেমনটা নয়। জনগণ সব বুঝছেন। বিজেপি-তৃণমূলের এই আঁতাঁতের মাঝে তাঁদের কাছে একমাত্র বিকল্প বামেরাই।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে সুজন চক্রবর্তীর আরও কটাক্ষ, “ভাঙাগড়ার রাজনীতি এখানে উনিই এনেছিলেন। আগে তৃণমূল বাম, কংগ্রেসের মতো দল থেকে নেতা, কর্মীদের ভাঙাত। এখন নিজের ঘর ভাঙছে। এখন তিনি বুঝছেন ভাঙন কেমন। তবে এসব ভাঙাগড়ার খেলা বিজেপি আর তৃণমূলই খেলুক।”

অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফাকে হাতিয়ার করে আরো একবার তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি জানান, “শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেকবার জানিয়েছেন যে ওনার ভাইপো কয়লা পাচার, গরুপাচার ও দুর্নীর্তিতে যুক্ত। শুভেন্দুর অধিকারীর পদত্যাগে সারা রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি শুধু রাজ্যের মানুষ নন তৃণমূলও ক্ষুব্ধ। এতদিন শুধু সাধারণ মানুষ তৃণমূল সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এখন স্পষ্ট হল যে তৃণমূলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ। “

Leave a Reply