‘শুভেন্দু তৃণমূলেই আছেন’, ‘তৃণমূলের অন্যতম যোদ্ধা’ বললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

0
58

“আমায় মুখ্যমন্ত্রী তাড়াননি। আমিও ছাড়িনি।” বৃহস্পতিবার রামনগরের ‘মেগা শো’য়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই বলেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করেছেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি কিছুটা কৌশল করেই জানিয়ে দেন যে তিনি তৃণমূলেই। এবার শুভেন্দুর সেই অবস্থানেই শিলমোহর দিলেন তৃণমূলের মহাসচিব তারা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বীরভূমের তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘শুভেন্দু তৃণমূলেই আছেন’। পাশাপাশি শুভেন্দুকে তৃণমূলের অন্যতম ‘যোদ্ধা’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।

প্রসঙ্গত এদিন বৃহস্পতিবার তারাপীঠে পুজো দিতে আসেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য সরকার করোনা এবং আমফান একসঙ্গে সামলেছে বলে দাবি করে পার্থ বলেন, ‘‘আমি চাই সবাই সুস্থ থাকুন। সবাই শান্তি, সম্প্রীতিতে থাকুন।’’ মায়ের কাছে কী প্রার্থনা?” শিক্ষামন্ত্রী পার্থ বলেন, ‘‘করোনা মুক্ত হোক রাজ্য, এই প্রার্থনা করেই মায়ের কাছে পূজো দিলাম।’’

কিন্তু পীঠস্থানে গিয়েও শুভেন্দু বিতর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেতাকে। তবে পার্থ বলেন, ‘‘শুভেন্দু এখনও আমাদের দলের অন্যতম যোদ্ধা। শুভেন্দু-সহ দলের সব বিশিষ্ট নেতাই আমাদের সঙ্গে আছেন।’’ ভবিষ্যতে শুভেন্দু দল ছাড়বেন কি না, এই প্রশ্নে অবশ্য কিছুটা বিরক্ত হয়েই পার্থ বলেন, ‘‘আমি গণৎকার নই।’’

Advertisement

প্রসঙ্গত বিগত কয়েকমাস ধরেই শুভেন্দু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছিল। ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছিল শাসক দল ও শুভেন্দুর মধ্যে। এমনকি শুভেন্দুর বিজেপি গমন নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল বাংলার রাজনৈতিক মহলে। এদিন সেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন শুভেন্দু নিজেই।

এদিন তিনি বলেছেন, “আমি যে পদগুলিতে আছি, সবগুলি নির্বাচিত, মনোনীত নয়।আমি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য। আমি এখনও রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী এখনও আমায় তাড়িয়ে দেননি, আমিও ছেড়ে যাইনি।নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাজ করার লোক আমরা নই। সমবায়িকার মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা যায় না। শুভেন্দু অধিকারী স্থান-কাল-পাত্র-ব্যানার জানে।”

সমবায় সপ্তাহ পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। আজকের জনসভায় প্রায় ২০,০০০ মানুষ হাজির ছিলেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। কিছুদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছিলেন যে ১৯শে নভেম্বর রামনগরে ‘মেগা শাে’ হবে, তাই অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে আজই বুঝি বিস্ফোরক কিছু ঘোষণা করবেন তিনি।

তবে এদিন রামনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা হাইপ করেছেন, তাদের দায়িত্ব। সমবায় তথা অরাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি রাজনীতির কথা বলব না। শুভেন্দু অধিকারী স্থান-কাল-পাত্র জানেন।” তিনি এও বলেন, “দল করতে বিভিন্ন কারণে গেলে বিভেদ আসে। বিভেদ থেকে বিচ্ছেদও আসে। কিন্তু যতক্ষণ মন্ত্রীসভায় আছি বা দলে আছি, ততক্ষণ কোনও রাজনৈতিক কথা বলা যায় না। আমি সেটা বলতে পারি না।”

 

 

Leave a Reply