নিখোঁজ ৭৬ শিশুর সন্ধান করায় ব্যতিক্রমী পদোন্নতি ঘটল মহিলা পুলিশ হেড কনস্টেবল সীমা ঢাকার

0
86

#সীমা ঢাকা:    দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্য থেকে পাচারকারীদের হেফাজতে থাকা প্রায় ৭৬ শিশুর সন্ধান করার জন্য ব্যতিক্রমী পদোন্নতি ঘটল মহিলা পুলিশ হেড কনস্টেবল সীমা ঢাকার। বুধবার দিল্লি পুলিশ কমিশনার এস এওন শ্রীবাস্তব আনুষ্ঠানিক ভাবে সীমা ঢাকার পদোন্নতি কার্যকর করেছেন। মহিলা পুলিশ হেড কনস্টেবল সীমা ঢাকাই প্রথম এমন পদোন্নতিতে পুরষ্কৃত হলেন।

গত অগস্ট মাসে ১৪ বছরের কম ৫০টি শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সমস্ত কনস্টেবল ও হেড কনস্টেবলের ব্যতিক্রমী পদোন্নতির ঘোষণা করেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার এস এওন শ্রীবাস্তব। তিন মাসেরও কম সময়ে ১৪ বছরের কম ৫০টি শিশু-সহ মোট ৭৬টি শিশুকে উদ্ধার করেন সীমা ঢাকা।

সীমা জানিয়েছেন, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হরিয়ানা ও পাঞ্জাব থেকে ওই শিশুদের উদ্ধার করা হয়েছে। মাসের পর মাস ধরে এই সব মামলায় কাজ করেন তিনি । তার দক্ষতা দেখে এই ধরনের অপরাধ সমাধান করতে তাকেই এগিয়ে দিয়েছিলেন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা, বলেন সীমা ঢাকা।

Advertisement

তিনি জানিয়েছেন, ‘এই পদোন্নতির জন্য আমার অগ্রজ আধিকারিক ও সহকর্মীরা সাহায্য করেছেন। নিজে মা হওয়ায় কাউকে সন্তানহারা দেখতে চাই না। প্রতিদিন আমরা দিন-রাত এক করে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারের কাজ করেছি।’

তবে সবকটি রাজ্যের মধ্যে কঠিন ছিল পশ্চিমবঙ্গের এক নাবালককে গত অক্টোবর মাসে উদ্ধার করা, বলেন  সীমা ঢাকা । বন্যা কবলিত অঞ্চলে নৌকোয় দুটি নদী পেরিয়ে এক নাবালককে উদ্ধার করেন তারা। তবে এর থেকেও বড় সমস্যা তখন দেখাদেয় যখন শিশুটির পরিবারের ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর পাওয়া যাচ্ছিল না ।

সীমার বলেন, ‘ওঁকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এটুকু জানতাম যে, ওই পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তল্লাশি অভিযান শুরু হলে বন্যা বিধ্বস্ত অঞ্চলে দুটি নদী পেরিয়ে এক ছোট গ্রামে পৌঁছাই। ওই পরিবারের এক আত্মীয়ের বাড়ির কাছাকাছি শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।যদিও শিশুটি বাড়ি ফিরতে চায়নি। সে জানিয়েছিল, তার সৎবাবা প্রায়ই মারধর করেন।’

সীমা আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন শিশুদের উদ্ধার করি, তাদের থানায় নিয়ে এসে কাউন্সেলিং করা হয়। বেশিরভাগ নিখোঁজ শিশুকেই রেল স্টেশন ও বাস স্টপের আশপাশে খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা ওদের সঙ্গে কথা বলে বাবা-মা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাই।’

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারকার্যে নামার পরে গত জুলাই মাসে কোভিড আক্রান্ত হন সীমা ঢাকা। তিন সপ্তাহ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকার পরে ফের তিনি কাজে যোগ দেন।

 

Leave a Reply