কোথাও নেই চিকিৎসক, কোথাও নেই বেড, সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাল ৯ বছরের বালক

0
170
কোথাও নেই চিকিৎসক, কোথাও নেই বেড, সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাল ৯ বছরের বালক

#কলকাতা: অসুস্থ অবস্থায় একাধিক হাসপাতাল-নার্সিংহোমে ঘুরেও পাওয়া গেল না চিকিৎসা। চিকিৎসার অভাবেই প্রাণ হারালো ৯ বছরের বালক। পেটে প্রবল ব্যাথা নিয়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমে একের পর এক জায়গায় গেলে, কোথাও রবিবার ছুটির দিনে চিকিৎসক নেই আবার কোথাও বেড নেই বলে ভর্তি নেয়না। শেষে এসএসকেএমে রাতের দিকে ভর্তি করানো হয়। আজ অর্থাৎ সোমবার অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রাণ হারাল ৯ বছরের বালক।

বালকের পরিবার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।অভিভাবকরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, যদি প্রথমেই হাসপাতাল-নার্সিংহোম একটু চেষ্টা কোর্ট তাহলে তাদের ছেলে বেঁচে যেত। পেটে অসহ্য ব্যথা নিয়ে বালকটিকে চারটি নার্সিংহোম-হাসপাতালে ঘুরেছেন। এই করেই বেশ কিছুঘন্টা নষ্ট হয়ে যায়। তাঁদের সন্তান সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা পায় না। শোকাহত বালকটির বাবা জানান, “প্রথমে ভাঙড়ে নিউপিয়া, তারপর সিএমআরআই, বেলভিউ ও পার্ক ক্লিনিকে নিয়ে যাই ছেলেকে। কিন্তু কোনও জায়গাই ভর্তি নেয়নি। কোথাও ডাক্তার, কোথাও বেড না থাকার কথা জানানো হয়। শেষে এসএসকেএমে আসি। আজ অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ। কালকে যদি ঘণ্টা পাঁচ-ছয় নষ্ট না হত, যদি ছেলেটা চিকিৎসা পেত, তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত আমার ছেলেকে।”

জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পেটে ব্যথা হওয়ায় শুরু হলে প্রথমে হাজরার শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বছর নয়েকের শেখ তানবীর হোসেনকে। তখন তাকে দেখে ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার মাঝেই হঠাৎ গতকাল পেটে ব্যথা প্রচণ্ড বেড়ে যায় শিশুটির। এরপর অভিভাবকরা ফের সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন। কিন্তু প্রথমে কোথাও নেয়নি তাঁদের সন্তানকে। এরফলে দীর্ঘ সময় অতিক্রম হয়ে যায়। চিকিৎসক জানান, ছেলের নাড়িতে কৃমি জড়িয়ে গিয়েছিল। অভিভাবকের অভিযোগ, “সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আমরা। কিন্তু ছেলের চিকিৎসার জন্য টাকা পয়সা নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু সবাই ফিরিয়ে দিল। একটু চেষ্টা করলে হয়তো আমার ছেলেটা বেঁচে থাকত।”

Advertisement

Leave a Reply