এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের মামলা
জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর পল্লবী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন নজরুলেরই গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর পল্লবী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন নজরুলেরই গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার এসআই এমদাদুল হক।
তিনি জানান, গতকাল গাজী নজরুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান একটি মামলা করেছেন। মামলায় তিনি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। এমপি নজরুল ছাড়াও তার দুই চাচাতো ভাইকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
এই মামলায় গাজী নজরুল ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। এর মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদীর চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।
তার আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) গাজী নজরুলের সঙ্গে এক তরুণীর অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকরা দাবি করেন, এগুলো এআই ব্যবহার করে তৈরি।
তবে পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান জানায়, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয়। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি সম্প্রতি তাকে বিয়ে করেছেন।
একই দাবি করেন ওই তরুণীও। এছাড়া এই দাবি মান্যতা দিয়ে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও একটি বার্তা দেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হলো না গাজী নজরুলের। বিতর্কের মুখে তাকে ছেঁটে ফেলেছে জামায়াত।