‘যাদু মিয়ার দূরদর্শী চিন্তায় পঁচাত্তরপরবর্তী সংকট নিরসন হয়’
মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছাড়া পঁচাত্তরপরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট সমাধানের চিন্তা কারও মাথায় ছিল না, তিনি সেই সংকট নিরসনে তার দূরদর্শী চিন্তা দিয়ে সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর করেন।
মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছাড়া পঁচাত্তরপরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট সমাধানের চিন্তা কারও মাথায় ছিল না, তিনি সেই সংকট নিরসনে তার দূরদর্শী চিন্তা দিয়ে সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত জননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভাটি আয়োজন করে মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি রক্ষা কমিটি।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, ‘মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ব্যাপারে অনেক কিছুই বলার আছে। আমি শুধু একটা বিষয়েই কথাই বলবো। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে পঁচাত্তরে রক্তক্ষয়ী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুজিবের দু শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটা পর্যন্ত বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি ছিল তা আমরা সবাই জানি। বিশেষ করে পঁচাত্তরপরবর্তী সময় যে রাজনৈতিক শূন্যতা সংকট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই সংকট সমাধানের চিন্তা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছাড়া কারো মাথায় ছিল না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যাদু ভাইয়ের সম্পর্কে কথা বলতে দাঁড়ালেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামনে না আনলে তার সম্পর্কে আলোচনা পূর্ণ করা যায় না। কেননা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আগামন এবং রাজনৈতিক পোশাকের পরিবর্তনের যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ঘটেছিল তা হয়েছে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার সহায়তায়।’
জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, ‘একজন সামরিক কর্মকর্তা, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার যে প্রক্রিয়া তা সম্পন্ন করতে যিনি সহযোগিতা করেছিলেন তিনি যাদু মিয়া। এ কারণেই শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হওয়ায় নিহিত আছে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক কৃতিত্ব।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৎকালীন নেতারা যত ভালোই চিন্তাই করেন না কেন, সেই চিন্তার মধ্যে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের যে দূরদর্শিতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছাড়া আর কারোর মধ্যে প্রতিফলিত হয়নি। এই দূরদর্শিতা ছিল বলেই তিনি ভেবেচিন্তে একজন সামরিক কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক নেতা রূপান্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তা পেরেছিলেন।’
সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের রাজনীতি নির্ধারণে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মতো মানুষ এ ভূখণ্ডে খুব কম ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির একজন জাদুকর ছিলেন।’
দুদু বলেন, ‘যাদু মিয়া দেশের রাজনীতির একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে একটি শক্তিশালী দল, নেতৃত্ব ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ধারণে যাদু মিয়ার মতো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তিনি যা ভাবতেন, দেশের বাস্তবতায় তা বাস্তব রূপ দেওয়ার সক্ষমতা, বিচক্ষণতা ও নেতৃত্ব তার মধ্যে ছিল।’
দুদু বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে প্রমাণ হয়েছে যাদু মিয়ার সেই রাজনৈতিক মূল্যায়ন সঠিক ছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা জনগণের সমর্থন পেয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠা, জিয়াউর রহমানকে সামনে আনা এবং পরে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘মশিউর রহমান যাদু মিয়া আজীবন নিপীড়িত মানুষের জন্য যুদ্ধ করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন।’
একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার ও সাংবাদিক আবু সালেহের সভাপতিত্বে সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলফাজ হোসেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ বক্তব্য দেন।