মেনু
সংবাদ টাইমস
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা
কনভার্টার

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ

সংবাদ টাইমস ডেস্ক প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ 31 বার পঠিত
এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ
ছবি : ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন কর্মপদ্ধতি তৈরি করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রাথমিক তহবিল এবং অকৃতকার্য বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।


শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এবার এসএসসিতে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত না করতে পারলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হতে পারে না।’

তিনি জানান, এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের আগ্রহ, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার।

যেসব শিক্ষার্থী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আগ্রহী, তাদের নিজ এলাকার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কারও ব্যবসা শুরুর মতো উদ্ভাবনী ধারণা থাকলে তাকে ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিল দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

এ ছাড়া জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইউরোপীয় ভাষায় তিন থেকে ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এক বছরের বদলে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আমরা সামনে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে আশাবাদী।’

শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনর্নিরীক্ষণ চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু মেধার ঘাটতির কারণে নয়, আর্থিক অসংগতি, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট কিংবা পরীক্ষার আগে পারিবারিক সমস্যার কারণেও শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হতে পারে। এসব সংকট সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়। সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের পুরো জীবনকে বিচার করা যায় না। একটি বিষয়ে খারাপ করার কারণে কারও মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও ডা. আরিফুর রহমান।

শিক্ষা থেকে আরও দেখুন

নিচে স্ক্রল করলে পরবর্তী সংবাদ আসবে