দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের ‘অভিমানী’ বিধায়ক মিহির গোস্বামী

0
158

বিধানসভা নির্বাচনে যত এগিয়ে আসছে ততই প্রকাশ্যে আসছে শাসক শিবিরের অন্দরমহলের কোন্দল। বিগত কয়েকদিন ধরেই শুভেন্দুর মতই কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের ‘অভিমানী’ বিধায়ক মিহির গোস্বামী ও দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল। দল নিয়ে হতাশ মিহির গোস্বামী। তা তিনি বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোষ্টে পরিষ্কার করলেন। কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই দলের সঙ্গে, সমস্ত সম্পর্কে ছিন্ন করলেন মিহির। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘২২ বছর আগে যে দলটির সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম, আজকের তৃণমূল সেই দল নয়। এই দলে আমার জায়গা নেই। তাই আজ এই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমার যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই’। মিহিরের এই ফেসবুক পোষ্ট ঘিরে ফের সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

উল্লেখ্য কয়েকদিন ধরেই শাসক শিবির ও মিহিরের মধ্য মনকষাকষি চলছে। মিহির যে তৃণমূলের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চাইছেন না তা বেশ কিছু দিন ধরেই নানা ভাবে বুঝিয়েছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সেই মতো গত ৩ অক্টোবর দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেন। সেই সময়েই জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পেলে বিধায়ক পদও ছেড়ে দেবেন। কিন্তু কোনো নির্দেশ না আসায় শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন।

কালীপুজোর পরে পরে গত ১৭ নভেম্বর তিনি লেখেন, ‘আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। শ্যামা মায়ের আরাধনালগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়’? এর পর বৃহস্পতিবার ছিন্ন করার বার্তা দিলেন।

Advertisement

এ সবের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে দেখা করতে যান কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। যা জল্পনায় ঘৃতাহুতি হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মিহির। নিশীথের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে মিহিরের কোচবিহারের বাড়িতে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। কিন্তু দেখা হয়নি। জানা যায়, বিধায়ক আলিপুরদুয়ারে বোনের বাড়িতে গিয়েছেন বলে মন্ত্রীদের জানান মিহিরের স্ত্রী। দুই মন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে গিয়ে জানতে পারেন সকালে মিহির সেখানে এলেও পরে অসমের কোকরাঝাড়ে আরেক বোনের বাড়িতে গিয়েছেন। এর পর মন্ত্রীরা আর অসমে যাননি।তিনদিন আগেও এক দফা চেষ্ট চালায় তৃণমূল। মঙ্গলবারই মিহিরের বাড়িতে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। প্রায় ৪০ মিনিট একান্তে বৈঠক করেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু তাতেও যে বরফ গলেনি তা এদিনের পোষ্টে স্পষ্ট।

Leave a Reply