জেডিইউ-বিজেপির জোট না আরজেডি-কংগ্রেসের মহাজোট, কারা আসছে ক্ষমতায়, প্রতিবেশী রাজ্যেও বা তার কতটা প্রভাব পড়বে?

0
306

#বিহার_নির্বাচন:   আজই জানা যাবে বিহারে নির্বাচনের রেজাল্ট । জেডিইউ-বিজেপির জোট না আরজেডি-কংগ্রেসের মহাজোট, কারা আসছে ক্ষমতায়। বিহারের নির্বাচনের ফলের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাও। চলতি বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট বাংলাতে। প্রতিবেশী রাজ্যের ভোটের ফল থেকে এরাজ্যের ভোটের ফলের আগাম আভাস আদেও পাওয়া সম্ভব কী না, পুরোটা না হলেও খানিকটা আভাস মিলতেই পারে বলে ধারণা অনেকের। কারণ, বিহার ও বাংলা দুই রাজ্যেই পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রচুর। করোনার সংক্রমণের পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে কাজ এবং বাসস্থান হারিয়ে অকুলপাথারে পড়েছিলেন অনেকে। বাড়ি ফেরার ট্রেন-বাস না পেয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। কেউ বাড়ি অবধি পৌঁছতে পেরেছিলেন, কেউ রাস্তাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। যদিও মোদী সরকার সংসদে জানিয়ে দেন, লকডাউনে বাড়ি ফেরার পথে কতজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংক্রান্ত কোনও পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।

বিভিন্ন সমীক্ষার দাবি, লকডাউনের পর বিহারে ফিরেছিলেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহার ভোটে বিজেপি-জেডিইউ জোট হারলে বোঝা যাবে, আদেও পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ এসে ইভিএমে পড়েছে কী না। সেক্ষেত্রে বাংলা নিয়ে বিজেপির উদ্বেগের কারণ থেকে যাবে। কারণ, এরাজ্যেও পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কম নয়। তৃণমূল অবশ্য ফল ঘোষণার আগেই আত্মবিশ্বাসী যে এমনটা হবেই। দলীয় সাংসদ সৌগত রায়ের দাবি, ‘বিহার ভোটের প্রভাব পড়বে। বিহার লাগোয়া রাজ্য। এখানে প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। বিহারে হারলে মোদির ভাবমূর্তি ধাক্কা খাবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা লকডাউন ভালভাবে নেয়নি, প্রমাণিত হবে।’

অপরদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই যুক্তিকে উপেক্ষা করে দাবি করেছেন, ‘এর আগে তিনবার নীতীশের সরকার এসেছে। বাংলায় উল্টো পরিস্থিতি। বাংলার পরিস্থিতি আলাদা। বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। ফলে বিহারে যাই হোক, তার প্রভাব বাংলায় পড়বে না।’

Advertisement

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘বিহার হবে বাংলা। তৃণমূল সামলা। নীতীশ কুমার যেমন সন্ন্যাসের কথা ঘোষণা করেছেন, মমতাকেও তাই করতে হবে। জোট ক্ষমতায় আসবে।’ সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল এবার হারছে। ওরা ভালো করেই জানে। বিহার ভোটে বিজেপির হার নিশ্চিত। বিজেপির ওপর কেউ ভরসা রাখতে পারছে না। এরাজ্যে আমরা ও বেশ কিছু শক্তি একত্রিত হয়ে আসবে। বিহার ভোটের ফলাফল বিষয়টিকে আরও সুনিশ্চিত করে দেবে। এবার তৃণমূল-বিজেপি কেউ নয়।’

২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে বিরাট জয়ের পরও ২০১৫-এ বিহারে আরজেডি-জেডিইউ জোটের কাছে পরাজিত হয়েছিল বিজেপি। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গেও নিজেদের ভিত গড়ে তুলতে অক্ষম ছিল বিজেপি। তবে এবার বিহারে কী হবে? প্রতিবেশী রাজ্যেও বা তার কতটা প্রভাব পড়বে? সেটাই দেখার।

Leave a Reply