‘মুখ্যমন্ত্রী এখনও তাড়িয়ে দেননি, আমিও ছেড়ে যাইনি’, সমবায়িকার মঞ্চ থেকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর

0
130

#শুভেন্দু-অধিকারী: রামনগরের ‘মেগা শো’য়ের মঞ্চ থেকেও নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন না শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেছেন, “আমি যে পদগুলিতে আছি, সবগুলি নির্বাচিত, মনোনীত নয়।আমি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য। আমি এখনও রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী এখনও আমায় তাড়িয়ে দেননি, আমিও ছেড়ে যাইনি।নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাজ করার লোক আমরা নই। সমবায়িকার মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা যায় না। শুভেন্দু অধিকারী স্থান-কাল-পাত্র-ব্যানার জানে।”

সমবায় সপ্তাহ পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। আজকের জনসভায় প্রায় ২০,০০০ মানুষ হাজির ছিলেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। কিছুদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছিলেন যে ১৯শে নভেম্বর রামনগরে ‘মেগা শাে’ হবে, তাই অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে আজই বুঝি বিস্ফোরক কিছু ঘোষণা করবেন তিনি।

তবে এদিন রামনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা হাইপ করেছেন, তাদের দায়িত্ব। সমবায় তথা অরাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি রাজনীতির কথা বলব না। শুভেন্দু অধিকারী স্থান-কাল-পাত্র জানেন।” তিনি এও বলেন, “দল করতে বিভিন্ন কারণে গেলে বিভেদ আসে। বিভেদ থেকে বিচ্ছেদও আসে। কিন্তু যতক্ষণ মন্ত্রীসভায় আছি বা দলে আছি, ততক্ষণ কোনও রাজনৈতিক কথা বলা যায় না। আমি সেটা বলতে পারি না।”

Advertisement

সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুবাবু জানিয়েছেন, সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে তার দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হাওড়া ও হুগলির গ্রামীণ এলাকার পাঁচ লক্ষ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এদিন তিনি বলেন, “১৯৯৬ সাল থেকে আমি সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। পয়সার জন্য নয়, নেশায় মানুষের কাজ করি। সমবায়ের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আমি।”

শুভেন্দু এদিন বলেন, “আমি বসন্তের কোকিল নই। শুধু ভােট চাই ভােট দাও বলি না। সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা মানুষের সঙ্গে থাকি। লকডাউনে ছিলাম, কোভিডে ছিলাম, আমফানের সময়েও ছিলাম। ঝড়ের রাতে দিঘায় মনে হচ্ছিল উড়িয়ে নিয়ে ফেলে দেবে। কিন্তু নন্দীগ্রাম করা লােক তাে! অত সহজে ওড়ানাে যাবে না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, শুভেন্দু যথেষ্ট কৌশলী। তিনি জানেন কখন কি করতে হয়, রাজনৈতিক শিষ্টাচারও মেনে চলছেন। তিনি যেহেতু এখনও তৃণমূলের সদস্য, আবার একইসঙ্গে মন্ত্রীসভার দুটি দফতরের মন্ত্রী। সুতরাং পদে থেকে শাসক দল বা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলা তাঁকে মানায় না। এদিন শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান খোলসা না করলেও, আকারে ইঙ্গিতে নিজের শক্তিবৃদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন।

আজকের বক্তৃতার পরতে পরতে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়ার সম্ভাবনার দরজা এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে একইসঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি মনোনীত নন, তিনি নির্বাচিত। অর্থাৎ কেউ তাঁকে সাহায্য করেনি, তিনি নিজে পরিশ্রম করে নিজের যোগ্যতায় নিজের জমি শক্ত করেছেন। শুভেন্দুর ইঙ্গিত বলছে তিনি ‘মনোনীত’ কারও কথা অনুযায়ী চলতে নারাজ। ভবিষ্যতে কি হবে, সেটাই এখন দেখার।

 

Leave a Reply