‘গুপকর গ্যাং’ নিয়ে সোনিয়া ও রাহুলের অবস্থান জানতে চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

0
33

কাশ্মীরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ফারুক আবদুল্লাহার নেতৃত্বাধীন বিরোধী মহাজোট ‘গুপকর গ্যাং’ বা ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লেরেশন’ নিয়ে সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তথাকথিত ভারত বিরোধী এই ‘গুপকর গ্যাং’ নিয়ে আক্রমনের তির ছিল সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী নিয়ে। কারণ
বিরোধীদের এই মহাজোটে ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, পিপলস কনফারেন্স, আওয়ামি ন্যাশনাল কনফারেন্স ও সিপিএম। কিন্তু কংগ্রেস এই জোটে যেন ‘না থেকেও আছে’।

এদিন সেইমতো কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার উদ্দেশ্যে অমিত শাহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে কাশ্মীরে ‘গুপকর গ্যাং’-এর কার্যকলাপ নিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর অবস্থান কী? কংগ্রেস কী ‘গুপকর গ্যাং’-এর কার্যকলাপকে সমর্থন করছে?

এদিন একের পর এক টুইটে কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কামান দাগেন অমিত শাহ। তিনি লেখেন, “আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে গুপকর গ্যাং। জম্মু-কাশ্মীরে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চাইছে তারা। ভারতের তেরঙাকেও অপমান করছে গুপকর গ্যাং। সোনিয়াজি ও রাহুলজি কি তাদের এই কাজ সমর্থন করেন? তাঁদের উচিত ভারতের মানুষের কাছে তাঁদের অবস্থানটা পরিষ্কার করে তুলে ধরা।”

Advertisement

শুধু তাই নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তোপ দাগেন, “কংগ্রেস ও গুপকর গ্যাং চাইছে জম্মু-কাশ্মীরকে আবার সন্ত্রাস ও অস্থিরতার সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তারা দলিত, মহিলা ও আদিবাসীদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে চাইছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের মাধ্যমে যে অধিকার আমরা নিশ্চিত করেছিলাম। এই কারণেই মানুষ সব জায়গায় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই গুপকর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফ ঘোষণা, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে। জাতীয় স্বার্থের বিরোধী কোনও অপবিত্র আন্তর্জাতিক জোটকে দেশের মানুষ সহ্য করবে না। হয় গুপকর গ্যাংকে জাতীয় ভাবাবেগের অংশীদার হতে হবে নইলে তারা ডুববে।” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ।

প্রসঙ্গত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে আনতেই বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে মহাজোট। যার নাম পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লেরেশন’। বিরোধীদের এই মহাজোটে রয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, পিপলস কনফারেন্স, আওয়ামি ন্যাশনাল কনফারেন্স ও সিপিএম। এখন থেকে যারা একসঙ্গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে। আর এই লড়াইয়ে কাশ্মীরের পুরোনো পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আর এই জোটে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ফারুক অবদুল্লাকে। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে দেওয়া হয়েছে ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ। সংগঠনটির মুখপাত্র করা হয়েছে সাজ্জাদ লোনকে। আহ্বায়ক করা হয়েছে সিপিএম নেতা মহম্মদ ইউসুফ তারিগামিকে।

এক বিবৃতিতে আগেই বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের প্রতিটি আঞ্চলিক দল ও কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বিশেষ মর্যাদা লোপের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করবে। ওই সিদ্ধান্ত ‘গুপকার ডিক্লারেশন’ নামে পরিচিত। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদের আগেই এই জোট গড়া হয়েছিল। কিন্তু ৩৭০ ধারা রদের পর মুফতি ও আবদুল্লা পরিবারকে গৃহবন্দি করে দেয় কেন্দ্র। একবছর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আর ছাড়া পেতেই ফের ভূস্বর্গে সক্রিয় হয়ে পড়েন তারা। বিগত কয়েকদিনে চিনের সমর্থনে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার কোথাও বলেছেন অবদুল্লা।

Leave a Reply