তবে কি ইতিহাসে দেশ সরকারিভাবে মন্দায় প্রবেশ করতে চলেছে? শেষ ত্রৈমাসিকে ফের জিডিপি বৃদ্ধির হার সংকোচনের আশঙ্কা

0
168

দীর্ঘ লকডাউনে অর্থনীতির মুখ থুবড়ে পড়ার পর আনলক পর্বে আশা ছিল ঘুরছ দাঁড়ানোর। কিন্তু সম্প্রতি ফাঁস হাওয়া রিজার্ভ ব্যাংকের একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দেশে টেকনিক্যাল রিসেশন অর্থাৎ অর্থনৈতিক মন্দায় প্রবেশ করেছে। কারণ জুন থেকে সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকে ফের নাকি জিডিপি বৃদ্ধির হার সংকুচিত হয়েছে। প্রায় ৮.৬ শতাংশ। এর আগে এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে প্রায় ২৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল দেশের জিডিপি। তাই মনে করা হচ্ছে, দেশের সরকারিভাবে মন্দায় প্রবেশ করবে। যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার। যদিও একথা এখন সরকারিভাবে জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত করোনার জেরে প্রায় দীর্ঘ দুমাস ধরে সম্পূর্ণ লকডাউন পালন করেছে দেশ। যার জেরে থমকে গিয়েছিল দেশের অর্থনীতির চাকা। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার প্রভাবে এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ সংকুচিত হয়েছিল দেশের জিডিপি। প্রায় ২৪ শতাংশ। কিন্তু আনলক পর্বে ফের ধীরে ধীরে অর্থনীতির চাকা গড়াতে শুরু করে। আশা ছিল দেশ কিছুদিনের মধ্যেই করোনা পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। জিডিপি বৃদ্ধি তো দূর, ফের সংকোচনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

মানিটারি পলিসির দায়িত্বে থাকা রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্রর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল নিজেদের রিপোর্টে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকেও দেশের জিডিপি ৮.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে চলেছে। ওই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, “ভারত ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে টেকনিক্যাল রিসেশন অর্থাৎ মন্দায় প্রবেশ করেছে।”

Advertisement

যদিও সরকারিভাবে রিপোর্টটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ২৭ নভেম্বর তা প্রকাশিত হওয়ার কথা। আর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সেটিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, “ইতিহাসে প্রথমবার মন্দা শুরু হল দেশের অর্থনীতিতে। প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ ভারতের আসল শক্তিকেই তার দুর্বলতায় পরিণত করেছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্র অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে একাধিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করলেও সাধারণ মানুষ তার বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। যার ফলে মোট বল দাঁড়াচ্ছে শূন্য। যার জেরে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে জন্য মূলত রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী সে অর্থে বিশেষ কোনও কার্যকরী নীতিই গ্রহণ করতে পারেননি।

Leave a Reply