একুশের নির্বাচন নিয়ে সর্বদল বৈঠকের ডাক জাতীয় নির্বাচন কমিশনের

0
149

কুড়ি ফুরোলেই একুশের হাই ভোল্টেজ বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। আর তাই নিয়েই সরগরম বাংলার রাজনীতি। শাসক ও বিরোধী শিবির একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ। একদিকে শাসকদল তৃণমূল যেমন চাইছে গদি বাঁচাতে। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন পদ্ম শিবির চাইছে গদি উল্টে পরিবর্তন আনতে। সেই মতো কোমরবেঁধে রাজনীতির গড়ের মাঠে নেমে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। পূর্ণ সহযোগিতা আসছে দিল্লী থেকেও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিজে হস্তক্ষেপ করছে বঙ্গ বিজেপির গোড়া আরও মজবুত করতে। কখনও সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় এসে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের চাঙ্গা করছেন। সঙ্গে রয়েছে দিলীপ ঘোষের শাসক দলের উদ্দেশ্য চাঁচাছোলা আক্রমন। হাত গুটিয়ে বসে নেই বাকি দলগুলো, যেমন কংগ্রেস, সিপিএম। সব মিলিয়ে নির্বাচন নিয়ে বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়ছে।

তাই আর দেরী না করে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমেই চলবে এই বৈঠক। যেখানে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম সমস্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিত থাকার কথা।

উল্লেখ্য করোনা আবহেই বাংলায় হবে বিধানসভা নির্বাচন। তাই করোনা বিধি মেনে কিভাবে নির্বাচন পালন করা হবে সেই নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসছে জাতীয় নির্বাচনের কমিশন। করোনা অতিমারি প্রকোপ তখন কতটা থাকবে, সেটা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন। কিন্তু কোনওরকম জটিলতা রাখতে চায় না নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

এরই পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও সমস্ত জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করবেন। এক আধিকারিক জানান, ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারও। করোনা আবহে কেমন ভাবে নির্বাচন পর্ব চলবে, তা নিয়েই চলবে মূলত এই বৈঠক।

নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “আপাতত কাজকর্ম চলছে। আমাদের কাছে বিহারের বিধানসভা ভোট একটি মডেল হয়ে গিয়েছে এবং বিহারের অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলায় ভোট পদ্ধতিতে অনেক সাহায্য হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোর মধ্যেও করোনা আবহে নির্বাচন করানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়, ”

প্রসঙ্গত গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় হাসিল করতে পেরেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সিপিএম-কংগ্রেসের যুগ্মভাবে চেষ্টা চালিয়েও সেই জয় আটকানো সম্ভব হয়নি। তবে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন আর ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। আর এই একুশের নির্বাচনের উপরই নির্ভর করছে আগামীদিনের বাংলার ভবিষ্যত।

Leave a Reply