দুপুরে শুভেন্দু বিকেলে মিহির! তৃণমূল ছাড়লেন কোচবিহার দক্ষিণের অভিমানী বিধায়ক

0
79

শুভেন্দুর পর এবার তৃণমূল ছাড়লেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। দলের প্রাথমিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। উল্লেখ্য কয়েকদিন ধরেই শুভেন্দুর মতো মিহিরকে নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনীতিতে। ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছিল তৃণমূল ও মিটারের মধ্যে। ফেসবুকে একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মিহির। সেই মত বৃহস্পতিবার দলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছিলেন। তারপর শুক্রবার সকালে দিল্লি উড়ে যান তিনি। বিমানবন্দরে নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপরই স্পষ্ট হয়, মিহিরের তৃণমূল ছাড়া সময়ের অপেক্ষা।

বিবৃতিতে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক জানান, ২২ বছর ধরে দলের একনিষ্ঠ কর্মী। তবে জেলায় বারবার অপমানিত হয়েছেন। দলনেত্রীকে জানিয়েও পরিস্থিতির বদল হয়নি। তারপর শুক্রবার বিকেলে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন মিহির গোস্বামী। বিবৃতিতে দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্ক কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মিহির বলেছেন,’জেলায় জেলায় বারবার অপমানিত হয়েছি। দলের রাজ্য নেতৃত্ব তাতে নীরব ও প্রচ্ছন্ন মদত জুগিয়ে গিয়েছে। দলনেত্রীকে সে সব কথা জানিয়েও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আজ সব সহ্যের সীমা অতিক্রম করার সময়েও দেখেছি নেত্রী একইরকমের আশ্চর্য নীরবতা পালন করেছেন। সম্ভবত তিরস্কার-বহিস্কারের ক্ষমতাও তাঁর লুপ্ত হয়েছে। দলের চালক সিটে তিনি আর নেই। আজ এই তৃণমূল দলের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিলাম।’

উল্লেখ্য গত কয়েকদিন ধরে বেসুরো গাইছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তাঁর বাড়িতে বিজয়া সারতে যান সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। আরও তীব্র হয় জল্পনা।

Advertisement

পরে মিহির গোস্বামী বলেন,’৩ অক্টোবর থেকে সাংবাদিক বৈঠক ও সোশ্যালে মিডিয়ায় বারবার বলেছি, তাও সর্বোচ্চ নেত্রীর কাছ থেকে সাড়া পাইনি। দলের কাছে আমি ব্রাত্য। আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আর দলে থাকার মানে হয় না। অনেক চিন্তা করেছি। পরগাছাদের ঘেরাটোপে থেকে নেত্রী নিজেও প্রয়োজন উপলব্ধি করেননি। প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’

অন্যদিকে শুক্রবার দুপুরের দিকেই মন্ত্রীত্ব পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু অধিকারী। যা একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে। শুভেন্দুর অধীনে ছিল তিনটি দফতর, রাজ্যের সেচ, জলসম্পদ ও পরিবহণ। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, , ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আমি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যেন এটি গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে এই চিঠি ই-মেল মারফত রাজ্যপালের কাছেও পাঠিয়েছি। আমি খুবই ধন্য যে, রাজ্যের প্রশাসন ও রাজ্য আমাকে এই মন্ত্রিত্বপদে নিয়োগ করেছিল এবং আমি যথাসাধ্য নিজের প্রতিশ্রুতি রাখার চেষ্টা করেছি। রাজ্যের মানুষকে সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ।’

 

Leave a Reply